দ্যা সিক্স ডেভিলস – দ্যা ক্লাস অফ ৯২

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবটার রেকর্ডটা খুব খারাপ না, কি বলুন? এইতো, ২০টা প্রিমিয়ার লীগ আর ৩টা চ্যাম্পিয়নস লীগ।

এর পাশাপাশি অবশ্য আরেকটা জিনিস আছে ম্যানচেষ্টারের লাল অংশের। একটা দুর্দান্ত একাডেমী। হালের প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় পল পগবা এই একাডেমীরই আবিষ্কার।

যাই হোক, ক্যাপশন দেখে হয়ত ভাবছেন, ক্লাস আবার একাডেমীর কেমনে হয়? ক্লাস হয় স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে। ফুটবল একাডেমীতে হবে বল নিয়া লাত্থালাত্থি, ক্লাসের টাইম আছে?

এই ক্লাস ওই ক্লাস না, আমরা কোন ইনস্টিটিউট এর ব্যাচ বলতে যা বুঝাই, এই ক্লাসও তাই। তা ১৯৯২ এর ব্যাচ কিতা করছিলো ভাই?

– এই ব্যাচ থেইকা ৬টা প্লেয়ার বের হইছিলো।
– মাত্র ৬টা! এইটা নিয়া তাইলে এত ফালাফালি ক্যান!
– ধুর মিয়া কথা শেষ করতে দেন।

এই ৬ জন ছিলেন – ডেভিড বেকহ্যাম, পল স্কোলস, রায়ান গিগস, গ্যারি নেভিল, ফিল নেভিল এবং নিকি বাট!

এদের মধ্যে সকলেই ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের তারকা, ফুটবল ইতিহাসে এখান থেকে অন্তত ৪ জন জায়গা পাবেন অনায়াসে।

শুরু করি, ডেভিড বেকহ্যামকে দিয়েই। নারীমনের হার্টথ্রব এই ফুটবলারের ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেক ঘটে ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ সালে, ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ এলবিয়নের বিপক্ষে। ইউনাইটেডের হয়ে জিতে নেন ৬টি লীগ টাইটেল, ২টি এফএ কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লীগ। ফার্গি টাইমে ১৯৯৯ ফাইনাল জয়ের দুইটি কর্নারই নেন এই ইংলিশ উইঙ্গার। এছাড়াও পরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একটি লা লীগা জেতেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন ৬ বছর, ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে নিয়ে যাওয়া সেই অতিমানবিক ফ্রি কিক কি ভোলা যায়! সাধে তো আর সেট পিসের রাজা বলা হয় না তাকে!

সর্বকালের সেরা উইঙ্গারদের লিস্ট করলে তাতে যে আপনার বেকহামকে রাখতেই হবে, তাতে সন্দেহ নেই! হয়ত ব্যালন নেই, তবে তার খেলায় যে এক্সিলেন্সি ছিলো, তা আজকাল দুর্লভই বলা যায়!

এরপর বলি রায়ান গিগস এর কথা। বেকহ্যাম তবু ইউনাইটেড ছেড়েছিলেন, গিগস ছাড়েননি! ২৩ বছর খেলেছেন লাল জার্সি গায়ে, ময়েস বিভীষিকার শেষে কিছুদিন ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচও! অবিশ্বাস্য ৬৭২ ম্যাচ খেলেছেন, ১১৪ গোল করেছেন, করিয়েছেন খুব সম্ভবত ১৪৭টি। লীগ জিতেছেন ১৩টি, ৪টি এফএ কাপ ও ২টি চ্যাম্পিয়নস লীগ। ওয়েলসের হয়ে তেমন কিছু না করলেও, ইউনাইটেডের গ্রেটেস্টদের মধ্যে জায়গা পাবেন নিশ্চিতভাবেই।

আরেক জন, যিনি লাল জার্সিতেই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন, পল স্কোলস! স্কোলসকে বলা হয় প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, মেসি তো বলেইছেন, লা মাসিয়ায় স্কোলসকে আইডলাইজ করা হতো! ৪৯৯টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১০৭টি, খেলেছেন মোট ১৯ বছর। ২০১১-১২ সিজনটাও অবসরে গেলেও, পরের সিজনেই ফিরে আসেন এবং তারপর রাজসিক ভাবেই বিদায় নেন, লীগ জিতে। অদ্ভুত না, যেই সিজনটা স্কোলস খেললেন না, সেটাই জিততে পারলো না ইউনাইটেড! ১১টি প্রিমিয়ার লীগ, ৩টি এফএ কাপ আর ২টি চ্যাম্পিয়নস লীগ, সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার বুঝি একেই বলে!

এবার বলি নেভিল ভাইদের মধ্যে বড় জন, গ্যারির কথা। তিনিও ওই ওয়ান ক্লাব ম্যানই, ১৯ বছর কাটিয়েছেন লাল শয়তানকে বুকে নিয়ে! মোট ম্যাচ খেলেছেন ৪০০, প্রিমিয়ার লীগের সর্বকালের সেরা রাইট ব্যাক তিনি কিনা, তা অবশ্যই মুখরোচক আলোচনার বিষয়। ইউনাইটেডের হয়ে জিতেছেন ৮টি প্রিমিয়ার লীগ, ৩টি এফএ কাপ ও ২টি চ্যাম্পিয়নস লীগ। কোচ হিসেবে ক্যারিয়ারটা সুবিধের না, তবে খেলোয়াড়ি নিয়ে প্রশ্নের কিছু নেই!

ছোট ভাই ফিলকে নিয়ে কিছু বলা যাক। ডিফেন্ডার ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এই মানুষটি অবশ্য উপরের ৪ জনের মত এত বেশীদিন খেলেননি ইউনাইটেডে, খেলেছেন ১১ বছর, এরপর যোগ দেন এভারটনে। লাল জার্সি গায়ে ম্যাচ খেলেছেন ২৬৩টি, জিতেছেন ৬টি প্রিমিয়ার লীগ, ৩টি এফএ কাপ এ ১টি চ্যাম্পিয়নস লীগ!

এবার সবার শেষের জন, নিকি বাট! পজিশনে ছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, সময়ের অন্যতম সেরাই ছিলেন! তার ইউনাইটেডে স্থায়িত্বকাল টা খারাপ নয়, ১২ বছর। এর মাঝে ম্যাচ খেলেছিলেন ২৭০টি, জিতেছিলেন ৬টি প্রিমিয়ার লীগ, ৩টি এফএ কাপ ও ১টি ইউসিএল! বর্তমানে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলের দায়িত্বে, তার মতই আরও অনেককে খুজে বের করার লক্ষ্যে!

এই ৬ জন মাঠে নামাটা ছিলো প্রতিপক্ষের জন্য শয়তানের মুখোমুখি হওয়া। যেন তাদের ব্যাজ থেকে তাদের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে সেই শয়তান, অপর দলকে শাস্তি দেওয়াই যাদের কাজ!

তাই এখনও, ফুটবল ইতিহাসের কোন এক একাডেমীর এক ব্যাচ এত বিখ্যাত হয়ে আছে, এতটা ভয়ংকর বলেই হয়তো! এই ৬ জন লাল শয়তান বল পায়ে যা করতেন তা বিধ্বংসী ছিলো, দেখতে মোহনীয় ছিলো বড়!

ভয়ংকর সুন্দর বোধহয় এদেরই বলে, তাই না?