ইংলিশ লীগের কিংবদন্তিরা – আজকের কিংবদন্তি “ইলিশা স্কট”

“ইলিশা স্কট” লিভারপুল ক্লাবের কিংবদন্তি ফুটবল যিনি লিভারপুল সমর্থকদের মনে স্থায়ীভাবে জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত লিভারপুলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে খেলা খেলোয়ার হলেন স্কট (১৯১৩-১৯৩৪)। আইরিশ পল স্কট লিভারপুলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক ।

বেলফাস্টে জন্মগ্রহণ করা স্কট আন্তর্জাতিক এবং ক্লাব পর্যায়ে প্রায় ৫০০টি ম্যাচ খেলেছেন।

লিভারপুলে যখন যোগদান করেন তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৭ বছর। এভারটন বয়সে ছোট বলে তাকে দলে নিতে আপত্তি করলে তা লিভারপুল লুফে নেন। পরবর্তীতে স্কট লিভারপুলের সে ভরসা রক্ষা করেছিলেন।

অভিজ্ঞ কেনি ক্যাম্পবেল যে সময় পুলের নেট রক্ষা করতেন বলে স্কটের সুযোগ হচ্ছিলো না, কিন্তু তরুণ স্কট ১৯১৩ সালের প্রথম দিনে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নেমে পরিষ্কারভাবে নিজের অবস্থানের সম্পর্কে অবহিত করেন। কিন্তু এরপরও মুল দলে জায়গা হচ্ছিল তার ফলে সেসময় তিনি প্রথমে ১ সিজন বেলফাস্টে এবং ১ সিজন লিনফিন্ডে কাটিয়ে আবার ফিরে আসেন লিভারপুলে।

১৯১৪-১৫ মৌসুমের স্কট লিভারপুলের প্রথম-পছন্দ খেলোয়াড় সুচনা করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরু হবার ফলে ফুটবল অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়, কিন্তু ১৯২০-এর দশকের দিকে তিনি অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

একজন সংবাদিক তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার চোখকে ঈগলের চোখ এবং তার গতিকে প্যান্থারের গতির সাথে তুলনা করেছিলেন।

স্কট ১৯২০ সালে ২৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সবগুলোতে জয়ী হন এবং ১৯২১-২২ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে মাত্র ৩টি ম্যাচ হেরেছিলেন। ঐ সিজনে লিভারপুল ১৬ বছরে পরে লীগ শিরোপা জিতেছিলো। পরের সিজনে আবারো লীগ শিরোপা পেলেও এরপর আর লিভারপুল আর তেমন কোন বড় সাফল্যের দেয়া পায়নি স্কটের সময়।

১৯৩৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে লিভারপুল হয়ে ৪৬৭তম ম্যাচ খেলে বিদায় নেন এবং বেলফোষ্ট সেল্টিকে একজন ম্যানেজার কাম খেলোয়ার হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৩৬ সালে ৪২ বছর বয়সে খেলোয়ার হিসেবে ফুটবল থেকে অবসর নেন এবং ১৯৪৯ পর্যন্ত বেলফোস্ট সেল্টিকের ম্যানেজার হিসেবে নিয়ুক্ত থাকেন।

১৯৫৯ সালের ১৬ মে এই কিংবদন্তী মারা যান।