অভিনন্দন হার না মানা যোদ্ধা

সতীর্থদের সমর্থনই পাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

মাদেইরার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম। মাদেইরা থেকে লিসবন, লিসবন থেকে ম্যানচেস্টার, ম্যানচেস্টার থেকে মাদ্রিদ পর্যন্ত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথচলা, যে পথচলা শেষ হয় নি এখনো৷ গোলমুখে এখনো সেই দূর্দান্ত রোনালদো। অফ দা বল মুভমেন্টে দারুণ এক স্পেস ক্রিয়েট করে অসাধারণ ফিনিশিং, প্রতিপক্ষকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে রোনালদোর সেলিব্রেশন৷

আবারও সেরা প্লেয়ারের মুকুট রোনালদোর হাতে৷ ফিফা দ্যা বেস্ট “Cristiano Ronaldo”৷  ২০০৮ সাল থেকে শুরু, ব্যালন ডি’অর বলুন অথবা ফিফা বেস্ট, এই ১০ বছরে বর্ষসেরার পুরষ্কার মেসি-রোনালদো ছাড়া জিততে পারেন নি অন্য কেউ৷ পারফেক্ট ডমিনেশন বোধয় একেই বলে৷

ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত জিতেছেন ৪ টি ব্যালন ডি’অর, ৩ টি ফিফার বর্ষসেরার খেতাব৷ কিন্তু এতো কিছু জেতার পথচলা কি এত্তো সহজ ছিলো?

নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মেসিকে টানা চারবার ব্যালন ডি’অর জিততে দেখা, আবার তিনবারই দ্বিতীয় হওয়ার যন্ত্রণা মেনে নেয়া কি এতটাই সহজ ছিলো?

রোনালদো পরাজিত হতে পছন্দ করেন না৷ পরাজিত সৈনিক রেগে গেলে কতটা ভয়ংকর হতে পারে সেটাই করে দেখিয়েছেন রোনালদো, পুনরুদ্ধার করেছেন ব্যালন ডি’অর,সাথে পরের ৪ বছরে জিতেছেন ৩ টি ব্যালন ডি’অর সাথে ২ টি ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড৷ জিতেছেন ৩ টি চ্যাম্পিয়নস লীগ, লা-লীগা, পর্তুগালের হয়ে ইউরো সহ আরও অনেক ট্রফিও। জাস্ট “ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো” থিংস!!

ম্যানচেস্টারের তরুণ টগবগে ক্রিস্টিয়ানোর কথাই বলুন অথবা মাদ্রিদের জার্সিতে পরিপূর্ণ রোনালদোর কথাই বলুন, সবখানেই তার নামের আগে একটি বিশেষণ যোগ করা যেতেই পারে, “সেনসেশনাল” মাঠের ভিতরের হার না মানা রোনালদো অথবা মাঠের বাইরের স্টাইলিশ তথাকথিত অ্যারোগেন্ট রোনালদোর কথাই বলুন,আপনাকে ইন্সপায়ার করতে একজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই যথেস্ট৷
পরিশ্রম সাথে নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস,দুটোর মিশ্রণেই আজকের এই রোনালদো৷
আসলেই,

“Hard work always pays off”

শেষটা করি পর্তুগালের ইউরো জয়ের রাতে কলকাতার এক লেখকের ভাষায়,

“ক্রিস্টিয়ানোর এক টুকরো হাসির জন্য বারবার পর্তুগীজ হিসেবে জন্ম নেয়া যায়৷
পর্তুগাল মৃতপ্রায়৷
পর্তুগালের আজ আর কিছু নেই৷
পর্তুগালের চাকরি নেই,জীবন নেই,মর্যাদা নেই৷
কিন্তু পর্তুগালের একজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আছে।”

Congratulations #The Best