বিদায় অমলেশ’দা

– দাদা আদাব
– আদাব, কি খবর বাবা? ভালো আছো?

আবাহনী ক্লাবে গেলে অমলেশ’দার সাথে আমার জন্য এই কথোপকথনটা খুব পরিচিত ছিলো। এখন পর্যন্ত যতবার, যত কাজে ক্লাবে পা রেখেছি প্রায় প্রতিবার উনার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এমনকি আমার সাংবাদিক হিসেবে প্রথম যেই ক্লাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সেটাও অমলেশ দা।

অথচ আজকের পর আবাহনী ক্লাবে ঠিকই যাওয়া হবে কিন্তু উনার সঙ্গে আর কখনো কথা হবে না। উনি গম্ভীর মুখ করে সরল উত্তরগুলো আর দিবেন না। কোন খেলোয়াড় এসে মুচকি হেসে বলবেনা, ‘দাদা আজকে একটু ব্রেক নেই? শরীরটা ভাল্লাগছেনা।’ কারন অমলেশ’দা যে আর নেই, চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে।

শুধু ফুটবল নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেই এক গর্বের নাম অমলেশ সেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম কান্ডারি। আবাহনীর একদম শুরু থেকে ছিলেন ক্লাবের সঙ্গে। প্রথমে খেলোয়াড় এবং পরে কোচের ভূমিকায় সার্ভিস দিয়ে গেছেন নিজের প্রাণ প্রিয় ক্লাবটিকে। ক্লাবের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ক্লাবের কাজে।

আজ ব্রেইনস্ট্রোক করে বাংলাদেশ মেডিকেলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে এমন এক পথে উনি চলে গিয়েছেন যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না কখনো।