রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ভ্যালেন্সিয়াঃ প্রি-ম্যাচ অ্যানালাইসিস

ভ্যালেন্সিয়ার সাথে রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্যাট কখনোই খুব একটা সুখকর নয়। সর্বশেষ ৬ বারের দেখায় মাত্র ২ বারই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে মেরেংগুয়েজরা। বাকি ৪ ম্যাচের মধ্যে আবার দুটিতেই হার। তবে আশার কথা হল জয় দুটির দুটিই এসেছে ঘরের মাঠে। আর আজ ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই ভ্যালন্সিয়াকে আতিথ্য দেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ।

সদ্যই বার্সালোনাকে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে হারিয়ে সুপার কোপা জিতে এসে লা লীগার প্রথম ম্যাচে অ্যাওয়ে ম্যাচে ডেপোর্টিভো লা করুণাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ঘরের মাঠে এ ম্যাচ নিয়ে ফুরফুরে মেজাজেই থাকার কথা জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের। কিন্তু কিছু আনফরচুনেট ঘটনা এবং ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মোটেও রিলাক্স থাকতে দিচ্ছে না জিদানকে। সুপার কোপার প্রথম লেগে আনফরচুনেট রেড কার্ডের পর রেফারিকে করা হালকা পুশের কারণে ৫ ম্যাচের নিষেধজ্ঞা পেয়ে বসেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা পর্তুগীজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো , যার কারণে শুধু ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচই নয় , এরপরেও তিন ম্যাচ তাকে দেখতে হবে ভিআইপি গ্যালারিতে জর্জিনা আর ক্রিস জুনিয়রের সাথে বসেই । দলের প্রধান কাণ্ডারিকে হারিয়ে কিছুটা নড়বড়ে রিয়াল ২য় ধাক্কাটা খায় লা লীগার প্রথম ম্যাচে। ম্যাচের তখন ৯২ মিনিট , আর নিজের স্বভাবমতই আবারো দৃশ্যপটে চলে আসেন রামোস । লাফিয়ে উঠে হেড, তবে এবার আর বলে নয়, মাথা গিয়ে লাগল অপোনেন্ট প্লেয়ারের মাথায় । আর তাতেই বাজিমাত, প্লেয়ারের হাত চলে গেল নিজের মাথায়, রেফারির হাত চলে গেল পকেটে আর রামোস মাঠের বাইরে ।

এটুকু হলেও হয়ত চলত, রিয়ালের স্কোয়াড ডেপথ এইধরনের ধাক্কা সামলাতে খুব ভালোভাবেই সক্ষম। কিন্তু ভাগ্যদেবতা যেন এইবার একটু বেশিই ডিটারমাইন্ড ছিলেন, তিনি ঠিক করলেন এই ডিপ স্কোয়াডের একেবারে ডিপে ঢুকেই কলকাঠি নাড়বেন তিনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ, রামোসের নিষেধাজ্ঞার পর দুই সিবি ভাল্লেজো আর ভারানে ইনজুরড। হারাধনের চার ছেলে, রইল বাকি এক, জিদানের হাতে তাই একমাত্র সিবি নাচো, কিন্তু পজিশন দুটো।

এমন অবস্থায় দুই ধরনের কাজ করতে পারেন ফ্রেঞ্চ মাস্টারমাইন্ড, যার প্রথমটি হল একাডেমি থেকে আলভারো তেহেরোকে প্রমোট করে নিজের প্রেফারড ৪-৩-৩ মেইন্টেইন করা। গত ২৩ তারিখ বার্নাব্যু ট্রফিতে ক্যাস্তিল্লা ডিফেন্ডার তেহেরো এবং মানু হার্নান্দোকে মিজারেবল টাইম দেওয়াই প্রমাণ করে কোচের ব্যাকআপ প্ল্যানে আছে এই দুই তরুণ সিবি।

ভ্যালেন্সিয়া রিয়ালের জন্য সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ, এখন এই ম্যাচে তেহেরো বা একাডেমির কোন ডিফেন্ডার নামানো কিছুটা রিস্কি হতে পারে। আর এই রিস্ক থেকেই আসে ব্যাকআপ পসিবল প্ল্যান বি। জিদানের মাদ্রিদের সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট মিডফিল্ড, মাদ্রিদের যেই সব মিডফিল্ডাররা বেঞ্চে বসে থাকে তারাও বাকি দলগুলোর ফার্স্ট চয়েস মিডফিল্ডার থেকে ভালো। তাই এরকম বিপদের সময় জিদান তার সবচেয়ে স্ট্রং সাইডকে ইউটিলাইজ করতে পারে। আচ্ছা, আমাদের দরকার সিবি, আর আমি বলতেছি মিডফিল্ডার ইউজ করতে। মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি? না না, মাথা ঠিকই আছে । মিডফিল্ডাররা মিডেই খেলবেন তবে চেঞ্জ আনা যেতে পারে ফর্মেশনে। যেহেতু আমাদের হাতে মাত্র ১ জন সিবি অ্যাভেইলেবল তাই আমরা ফর্মেশনটাকে চেঞ্জ করে ৩-১-৪-২ তে নিয়ে যেতে পারি যেখানে কার্ভা – নাচো – মার্সেলো মিলে ৩ জনের ব্যাক লাইন তৈরি করতে পারে । ভাজকুয়েজ – মদ্রিচ- ক্রুস – অ্যাসেন্সিও এর মিড লাইনের পিছনের আর ব্যাক লাইনের উপরে ডেস্ট্রয়ার হিসেবে ক্যাসেমিরো। উপরে বেল- বেনজেমা। এই উপায়ে সিবির অপ্রতুলতাকে ব্যাক আপ দেওয়া যেতে পারে।

উপরের দুই নাম্বার প্ল্যানটা খুব ভালো মনে হচ্ছে না? কিন্তু সত্যি বলতে ওই ফর্মেশন নিয়ে আমার নিজেরই মন খুঁতখুঁত করছে। কারণ প্রথমত ৩ জনের ব্যাক লাইনের সাধারণত ৩ জনই প্রপার সিবি খেলে থাকেন । আর উপরের প্ল্যানে প্রপার সিবি মাত্র ১ জন। তার থেকেও বড় কথা কার্ভাহাল আর মার্সেলো দুইজনই উইংব্যাক। তাই তারা দুই জন উপরে উঠে গেলে যেই শিল্ড তৈরির জন্য এই ৩ জনের ব্যাক লাইন সেইটারই কোন মানে থাকবে না। বেচারা নাচো একা বসে থাকবে, অবশ্য সেই ক্ষেত্রে ক্যাসেমিরো ন্যাচারাল পজিশন থেকে নেমে সেকেন্ড সিবি হিসেবে কাজ করতে পারে। আর এই আর্গুমেন্ট থেকেই সম্ভাব্য ৩য় প্ল্যানের আগমন। যদি ক্যাসেমিরো ট্রাঞ্জিশনাল ফেসে সিবি হিসেবে খেলতে পারে তাহলে কেন সে শুরু থেকেই খেলতে পারবে না? তাই সে ক্ষেত্রে আরেকটা অপশন হতে পারে ক্যাসেকে নিচে নামিয়ে ৪-৩-৩ এই শুরু করা ।

অনেক বকবক করলাম, এখন দেখার বিষয় জিনেদিন জিদানের মাস্টার মাইন্ড এই পজিশনে কি সলিউশন নিয়ে আসে, সেই সলিউশন কি উপরের কোনটার মতই নাকি অন্যরকম কিছু? জানতে হলে আপাতত ২ঃ১৫ পর্যন্ত জেগে থাকা ছাড়া উপায় নেই ।