জয় দিয়েই যাত্রা শুরু চ্যাম্পিয়নদের

পাঁচ ম্যাচ এর নিষেধাজ্ঞায় দলে নেই সেরা খেলোয়াড় বর্তমান বিশ্বসেরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু তাতেও আঁটকানো যায়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচেই দেপোর্তিভো লা করুনাকে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনাই করলো ২০১৭-১৮ লা লিগার।

স্কোরলাইন ৩-০ দেখালেও ম্যাচটা অতোটা সহজ ছিলনা রিয়ালের জন্য। খেলার শুরু থেকেই আক্রমাণাত্মক খেলতে থাকে দেপোর্তিভো। খেলার ৬ মিনিট এবং ৮ মিনিটে পরপর দুইটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে দুইবারই রিয়াল গোলরক্ষক নাভাসকে একা পেয়ে যান করুনার স্ট্রাইকার ফ্লোরিন এনডোনে। কিন্তু নাভাসের অসামান্য দক্ষতায় উভয় যাত্রায়ই গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায় মাদ্রিদের অভিজাতরা। শুরু থেকেই আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধ্য দিয়েই চলতে থাকে খেলা।

এরকমই একটি আক্রমন থেকে খেলার ২০ মিনিটে গোল করে বসে রিয়াল। মড্রিচের শট দেপোর্তিভোর গোলরক্ষক ব্লক করলেও ফিরতি বলে বেনজেমার পাস থেকে বল জালে জড়ান “ওয়েলশ উইজার্ড” বেল। এই ধারা বজায় রেখে খেলার ২৭ মিনিটে ২য় গোল পেয়ে যায় রিয়াল। বাম প্রান্ত থেকে মার্সেলোর ক্রসে পাঁ ছুইয়ে স্কোরশিটে নাম লিখান তারই স্বদেশি ক্যাসেমিরো। নিজেদের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন ৪৫ টি পাসের মাধ্যমে আসে এই গোল যা ২০০৪-০৫ পরবর্তি সময়ে সবচেয়ে বেশি পাসে গোল করার রেকর্ড। এরপরে দুই পক্ষেরই কিছু নিরবিচ্ছিন আক্রমনের মধ্যেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩য় গোল আদায় করে রিয়াল। বাম প্রান্তে ২ ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিং এ পরাস্ত করে বক্সের বিপদজনক জায়গা থেকে বেল এর দেওয়া পাস জালে জড়াতে কোন ভূল করেননি জার্মান স্নাইপার টনি ক্রুস। দেপোর্তিভোর খেলায় ফেরার আশা কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে গেলেও খেলায় উত্তেজনা বাকি ছিল আরো অনেকটুকুই। ৮৮ মিনিটে ড্যানি কার্ভাহাল নিজেদের ডিবক্সে দেপোর্তিভো উইংগার ব্রুনোকে ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। তবে সারা ম্যাচে অসংখ্যবার হতাশ করা কেইলর নাভাস আরো একবার পেনাল্টি বাঁচিয়ে হতাশ করেন ফ্লোরিন এনডোনে কে। খেলার অতিরিক্ত সময়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। খেলার বাকি সময় রিয়াল ১০ জন নিয়ে খেললেও আর কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রিয়ালের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় স্পেনিশ মিডফিল্ডার লরেন্তের।