মৌসুমের শুরুতে শিরোপা জিতে রিয়ালের আগমনী বার্তা

মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে রিয়ালকে এগিয়ে দেন কাসেমিরো। পরে ইসকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি। আর ম্যানইউর ম্যাচে ফেরার চেষ্টার গোলটি নতুন রিক্রুট রোমেলু লুকাকুর। এক দল ইউরোপের মৌসুম সেরা পারফর্মার ক্লাবগুলোর সঙ্গে লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল, দলটি রিয়াল মাদ্রিদ। আরেক দল সেরাদের সেই আসরে কোয়ালিফাই করতে না পেরে ইউরোপা লিগ খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, দলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

এই তথ্যই বলে দেয় গত মৌসুমে দুদলের পারফরম্যান্সে বিস্তর তারতম্য থাকলেও কোথায় এসে তাদের মিলিত করেছে সুপার কাপের ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে। স্কোপিয়েতেও থাকল সেই পারফরম্যান্সের তারতম্য। শুরুটা এলোমেলো হলেও আক্রমণের লাগাম ছিল রিয়ালের পায়েই। অবশ্য ১৬ মিনিটের সময় কাসেমিরোর মাথা ছুঁয়ে আসা বল ক্রসবার দুর্ভাগ্যে কাটা পড়ায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি লস ব্লাঙ্কোসদের।

এদিন শিরোপার হাসির সঙ্গে নিজেদের টানা গোলের রেকর্ডটিও আরেকধাপ ওপরে তুলে নিয়েছে রিয়াল। গত মৌসুমে টানা গোলের রেকর্ড ছিল ৬৫ ম্যাচ পর্যন্ত, সেটি ৬৬তে পৌঁছাল। গোলের ঘটনায় নাম না থাকলেও ম্যাচে আরও একজন ছিলেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লম্বা ছুটি কাটিয়ে রিয়ালের জার্সিতে ফিরেছেন। তবে খেলতে হয়েছে বদলি হিসেবে। সাইডবেঞ্চ গরম করার অভিজ্ঞতা হয়ত ভুলেই গিয়েছিলেন সিআর সেভেন। সেই ২০১৫ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবার বেঞ্চে পা দোলাতে দেখা গেল রোনালদোকে।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে করিম বেনজেমাকে উঠিয়ে মাঠে নামেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ততক্ষণে ম্যাচের চিত্রনাট্যটা ফাইনাল হয়ে গেছে। একদিকে ইসকো, ক্যাসিমিরো। অপরদিকে লুকাকু। এই তিনে মিলে স্কোরটা ২-১ সাজিয়ে রাখেন। রেফারির শেষ বাঁশি অবধি বজায় থাকে সেই ব্যবধান। মৌসুমের শুরুটা উৎসব দিয়েই রাঙাল জিনেদিন জিদানের ছাত্ররা। শেষের উত্তাপ মাড়িয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তুলল লস ব্লাঙ্কোসরা।

মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে উপচে পড়া দর্শকদের শুরুতেই উল্লাসে মাতোয়ারা করেন রিয়াল তারকা ক্যাসিমিরো। ২৪তম মিনিটে ড্যানিয়েল কারভাহালের বাড়ানো বলকে গোলের রঙে রাঙান এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।

বিরতির পর পরই হোসে মরিনহো তুলে নেন লিনগার্ডকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় রাশফোর্ডকে। ৫২ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন ইসকো। ইউনাইটেড রক্ষণ ভেঙে গোলপোস্টের কাছাকাছি বল নিয়ে ঢুকে পড়েন গ্যারেথ বেল তাকে সঙ্গ দেন কয়েকজন। শেষ পর্যন্ত বেলের দারুণ পাস কাজে লাগান ইসকো।

গোল হজমের পর ম্যানইউর খেলার ধার যেন অনেক বেড়ে যায়। শেষ সময়ে এসে তারা রিয়ালের ওপর অনেকখানি চড়া হন। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ম্যানইউকে প্রথম গোল এনে দেন লুকাকু। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় ইউনাইটেডকে। এই জয়ে টানা দ্বিতীয় ও মোট চতুর্থবারের মত উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতলো রিয়াল। সেই সাথে যেন প্রতিপক্ষকে বার্তা দিয়ে রাখল, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা বর্ণহীন থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দিতে আমরা প্রস্তুত!