অলিভার কানঃ দ্যা টাইটান 

জুন ৩০, ২০০২।

জাপানের ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম ইয়োকোহামাতে বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল এবং জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকেই রোনালদিনহো, রিভালদো, রবার্তো কার্লোস, কাফু, রোনালদো লিমাদের ব্রাজিল একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখছিল জার্মান রক্ষণভাগকে। কিন্তু জার্মান রক্ষণভাগে চির ধরালেও জার্মান গোলকিপার দেওয়ালে বার বার বাধা পেয়ে ফিরে আসছিল ব্রাজিলের সম্ভাবনাময় আক্রমণগুলো। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগ মুহুর্তে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার রোনালদো লিমার ওয়ান টু ওয়ান পজিশান থেকে নেওয়া শটও ফিরিয়ে দেন জার্মান কিপার। একরাশ হতাশা নিয়েই তাই ড্রেসিং রুমে যায় ব্রাজিলিয়ানরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও খেলার রূপ ও প্রকৃতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসলো না। ব্রাজিলিয়ানদের দুর্দান্ত অ্যাটাক আর জার্মান কিপারের সেই ভীষণ লড়াইয়ে বার বার জয়ী হচ্ছিলেন জার্মান কিপারই। কিন্তু ম্যাচের ৬৬ মিনিটে এক অমার্জনীয় ভুল করে বসলেন গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল খাওয়া জার্মান গোলকিপার। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রিভালদোর শট ঠেকিয়ে দিলেও বল গ্রিপ করতে পারলেন না তিনি। তার হাত থেকে বল স্লিপ করে গিয়ে পরল টুর্নামেন্টের টপ স্কোরার রোনালদো দ্যি ফেনোমেননের পায়ে। গোলকিপারের এক মাত্র ভুলের সুযোগ নিতে একটুও ভুল করেনি লিমা। আলতো ছোঁয়ায় বলকে পাঠিয়ে দেন তার নিজের ঠিকানায় আর তৈরি করে দেন জার্মানদের পরাজয়ের মঞ্চও। পরবর্তীতে ঐ ম্যাচে রোনালদো লিমার কাছে আরেকটি গোলও খেয়েছিলেন জার্মান কিপার তবে তাতে লিমার ক্রেডিটই বেশি। গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলেও ফাইনালে করা ভুলের কারণে বিশ্বকাপের সোনার ট্রফিতে চুমা দেওয়ার স্বপ্ন ছুতে ব্যর্থ জার্মান অধিনায়ক।

কথা বলছিলাম জার্মান কিংবদন্তী গোলকিপার অলিভার রফ কান এবং তার খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল এবং আফসোসের ব্যাপারে। যদিও ফাইনালে মাঠে নামার আগে তার ডান হাতের রিং ফিঙ্গারের লিগামেন্ট ছিড়া ছিল কিন্তু নিজের করা ওই ভুলের জন্য ইনজুরিকে দোষ দিতে নারাজ ছিলেন কান । ফাইনালে করা ঐ একটি ভুল জার্মানদের ৪র্থ বিশ্বকাপ (পরবর্তীতে ২০১৪ তে জার্মানি ৪র্থ বিশ্বকাপ জিতেছিল) থেকে বঞ্চিত করলেও টুর্নামেন্ট জুড়ে তার অসাধারণ পারফরমেন্সকে মলিন করে দিতে পারেনি। গোটা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ টি ক্লীনশীট এবং মাত্র ৩ গোল খাওয়ার অসাধারণ পারফরমেন্সের পুরস্কার স্বরূপ লেভ ইয়াসিন বেস্ট গোলকিপার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলকিপার হিসবে টুর্নামেন্টের বেস্ট প্লেয়ারের পুরষ্কার গোল্ডেন বল জিতেন কান। এছাড়াও ২২ বছরের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে টানা চারবার উয়েফা বেস্ট ইউরোপিয়ান গোলকিপার ও তিনবার ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্টরি এন্ড স্ট্যাটিসটিকস (IFFHS) এর বেস্ট গোলকিপার ইন ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড জিতেন সেই সময়ের এবং মতভেদে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলকিপার ।

দুই হাতে গ্লাভস পড়ে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে এত কিছু অর্জন করলেও ইয়াং বয়সে কিন্তু গোলকিপার হতেই চাননি অলিভার কান । ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির (বর্তমান জার্মানি) শহর কার্লস্রুহারে জন্ম গ্রহণের পর ১৯৭৫ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সেই লোকাল ক্লাব কার্লস্রুহার এস.সি তে জয়েন করে অলিভার কান। কানের বাবা রফও একই ক্লাবে তিন বছর খেলেছিলেন। ক্লাব জয়েনের কিছুদিন পরেই আবিষ্কার হয় যে ছোট কানের গোলকিপিং স্কিল তার প্লেয়িং স্কিল থেকে অনেক ভালো। ব্যস, এরপরেই আউটফিল্ড প্লেয়ার থেকে গোলকিপার হয়ে যান কান। ১২ বছর পর কার্লস্রুহারের সিনিয়র টিমে ডাক আসে কানের। সিনিয়র টিমে অন্তর্ভুক্তি ঘটলেও ৩ বছর মূল গোলকিপার অ্যালেক্সেন্ডার ফ্যামুলার ব্যাকআপ হিসেবেই থাকতে হয় কানকে। মাঝে মাঝে মাঠে নামলেও কোন গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে তাকে নামাতেন না কোচ। অবশেষে ১৯৯০ সালের পর থেকে মূল একাদশে নিজের জায়গা পাকা করে নেন কান। এবং এরপর থেকেই দলের কি প্লেয়ার হয়ে উঠতে শুরু করেন। কার্লস্রুহারও নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেতে শুরু করে। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই ১৯৯৩-৯৪ উয়েফা কাপের সেমিফাইনালে উঠে যায় কার্লস্রুহার। সেমিতে যাওয়ার পথে কোয়ার্টারে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালন্সিয়াকে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলের হারায় কানের দল। প্রথম লেগে মেস্তাল্লায় ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে আসলেও ২য় লেগে ঘরের মাঠ ওয়াইল্ডপার্কস্ট্যাডিয়নে এক আশ্চর্যনক ঘটনা ঘটিয়ে বসে কার্লস্রুহার। ভ্যালেন্সিয়াকে অপ্রত্যাশিত ভাবে ৭-০ গোলে বিদ্ধস্ত করে কানের দল। জার্মান মিডিয়া পরে ওই ম্যাচকে “মিরাকল অফ ওয়াইল্ডপার্কস্ট্যাডিয়ন” নামে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু মিরাকল ঘটিয়ে সেমিতে উঠলে স্বপ্নযাত্রার শেষ হয় সেমিতে এসভি অস্ট্রিয়া স্যালজবার্গের কাছে হেরে।

দল সেমিতে বাদ পড়লেও ওই টুর্নামেন্টের পারফর্মেন্স সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেয় অলিভার কানের জন্য। জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ তখন তাদের সদ্য রিটায়ার্ড গোলকিপার রেমন্ড অম্যান এর রিপ্লেসমেন্ট খুজছিল। কার্লস্রুহারের হয়ে উয়েফা কাপে কানের পারফরমেন্স নজরে পরে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষের। আর তাতেই তখন পর্যন্ত কোন গোল কিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ২.৫ মিলিয়নের বিনিময়ে মূল গোলকিপার হিসেবেই বায়ার্নে যোগ দেয় অলিভার কান। তার সাথে ওই বছর প্রথমবারের মত জার্মান গোলকিপার অফ দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেন অলিভার । একই সাথে ১৯৯৪ ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য জার্মান জাতীয় দলেও ডাক পান কান। যদিও গোটা বিশ্বকাপ তাকে বেঞ্চে বসেই দেখেতে হয়। জাতীয় দলে ডাক পেলেও জার্মানির হয়ে প্রথম মাঠে নামার জন্য গোটা ১ বছর অপেক্ষা করতে হয় কানকে। ১৯৯৫ সালে সুইটজারল্যান্ডের বিপক্ষে এক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে জার্মানির জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামেন কান। ম্যাচটিতে জার্মানি ২-১ গোলে জয় লাভ করে। ১৯৯৬ সালের ইউরো কাপেও সেকেন্ড গোলকিপার হিসেবে দলে ডাক পায় কান কিন্তু সেবারও মাঠে নামা হয়নি তার। বেঞ্চে বসেই দলের ইউরো বিজয়ের স্বাক্ষী হন। ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপেও স্কোয়াডে থাকেন কান কিন্তু এবারেও বেঞ্চে বসেই গোটা টুর্নামেন্ট কাটাতে হয় কানকে। অবশেষে প্রথম গোলকিপার আন্ড্রেস কোপকে অবসর নেওয়ার পরে মূল গোলকিপার হিসেবে জার্মান ন্যাশনাল টিমে অন্তর্ভুক্তি ঘটে অলিভার কানের।

এদিকে ন্যাশনাল টিমে মাঠে নামার জন্য স্ট্রাগল করলেও ক্লাবে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছিলেন কান। ১৯৯৬ সালে উয়েফা কাপ জিতার পর ৯৬-৯৭ সিজনে বায়ার্নের হয় প্রথমবার বুন্দেসলীগা ও জার্মান লীগ কাপ জিতেন। একই বছর দ্বিতীয়বারের মত জার্মান গোলকিপার অফ দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেন অলিভার কান।

ফাইনালে ব্লান্ডার করার ঘটনা কানের জীবনে একবার ঘটেনি, ২০০২ এর ওই বিশ্বকাপের আগেও বায়ার্নের হয়ে এক ফাইনালে বাজে পারফর্মেন্স দিয়েছিলেন কান। ১৯৯৯ সালের চ্যম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে মারিও বেসলারের ৬ মিনিটের গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে মিউনিখ তখনই ইনজুরি টাইমে (ফার্গি টাইম) পর পর দুই গোল হজম করে কান। যার ফলে ফাইনাল হেরে যায় বায়ার্ন। কানের এই দুঃসময় ভর করেছিল জার্মানি দলের উপরেও। জাতীয় দলের মূল গোলকিপার হিসবে খেলা প্রথম টুর্নামেন্ট ২০০০ সালের ইউরোতে গ্রুপ পর্বেই বাদ পরে কানের দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান জার্মানি।

জাতীয় দলের হয়ে দুঃস্বপ্নের ইউরো কাটিয়ে আসলেও বায়ার্নের হয়ে ভালোই সময় কাটাচ্ছিলেন অলিভার কান। ২০০১ সালে বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেন কান। ফাইনালে পেনাল্টি শ্যূট আউটে ভ্যালেন্সিয়া প্লেয়ারদের তিনটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে বায়ার্নকে ইউসিএল উপহার দেন কান এবং সেই সাথে ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল অ্যাওয়ার্ডও জিতেন তিনি। একই বছর আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও জিতে বায়ার্ন।

বায়ার্নের হয়ে ভালো সময় পার করলেও জাতীয় দলের হয়ে কানের দুর্দশা কাটছিলোই না। ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে মিউনিখের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে এক ম্যাচে ৫ গোল হজম করে কান। মাইকেল ওয়েন ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিল ওই ম্যাচে। ৫-১ গোলের ওই হার জার্মানিকে প্লে-অফ রাউন্ডের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যদিও প্লে-অফে ইউক্রেনকে হারিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপে জায়গা করে নেয় জার্মানি। জাতীয় দলের হয়ে খুব ভালো সময় না কাটালেও ক্লাবে অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণে দ্বিতীয়বারের মত আইএফএফএইচএস (IFFHS) বেস্ট গোলকিপার ইন ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড জিতেন কান।

২০০২ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ, কোনরকমে বাছাই পর্ব পার হওয়া জার্মান দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় কানের হাতে। আর অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতেই নিজের ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ টুর্নামেন্টটি খেলেন কান। যেই জার্মান দলকে নিয়ে কোন আশা ছিল না ফুটবল সমর্থকদের সেই দলকেই নিয়ে যান ফাইনালে। আর এই যাত্রায় সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন অলিভার। ফাইনালের আগে খেলা ৬ ম্যাচের ৫ টিতেই ক্লীনশিট রাখেন কান, হজম করেন মাত্র ১ টি গোল। কিন্তু এত কিছু করেও শেষটা ভালো করতে পারলেন না। পুরো টুর্নামেন্টে সলিড থাকা কান ভুল করে বসলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে, আর সেই ভুল তিনি করেছিলেন রোনালদো লিমার সামনে। তাই টুর্নামেন্ট শেষে তিনি বলেছিলেন যে “৭ ম্যাচে আমি মাত্র একটাই ভুল করেছিলাম আর সেই ভুলের জন্যই আমাকে নির্দয় শাস্তি পেতে হল।” তিনি ভুল কিছু বলেননি, রোনালদো লিমা যে কোন গোলকিপারের ভুলের শাস্তি যে নির্দয় ভাবেই দিতেন। ২০০২ এর ফাইনাল হারার পরে তিনি তার দলকে নিয়ে ২০০৪ এর ইউরোতেও যান কিন্তু সেই ইউরোতে গ্রুপ পর্বেই বাদ পরে জার্মানি। ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন কান, আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া হয় মাইকেল বালাকের হাতে।

২০০৪ এর পর থেকে ইনজুরি, ব্যাক্তিগত নানান রকম সমস্যা এবং আরো বিভিন্ন কারণে ফর্ম পরতে আরম্ভ করে কানের। এদিকে জার্মানি জাতীয় দলের কোচ হয়ে আসেন ক্লিন্সম্যান। ক্লিন্সম্যান এর সময়ে জার্মান জাতীয় দলে কানের জায়গা আস্তে আস্তে নড়বড় হতে শুরু করে। আর্সেনাল গোলকিপার লেহম্যানের সাথে রোটেট করে কানকে খেলানো শুরু করে ক্লিন্সম্যান। যদিও কান এই কম্পিটিশনকে পজিটিভ ভাবেই নিয়েছিল। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কানকে রাখলেও ক্লিন্সম্যান ঘোষণা করেন যে লেহম্যানই হবে তার ফার্স্ট চয়েস গোলকিপার। বেঞ্চে বসে থাকলেও জুনিয়র লেহম্যানকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে গেছেন কান। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পেনাল্টি শ্যূট আউটে লেহম্যানের হিরোয়িক পারফরমেন্সেরও প্রশংসা করেন কান। ইতালির সাথে সেমিতে হেরে জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে কানকে মাঠে নামান ক্লিন্সম্যান। অসাধারণ ২ গোলে ওই ম্যাচের সবটুকু আলো বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার কেড়ে নিলেও ফিগো, ডেকো, পাউলেতা, রোনালদোদের সামনে গোলবারের নিচে আস্থার প্রতীক হয়েই ছিলেন কান।

পর্তুগালের সাথে ওই ম্যাচই ছিল জার্মানির জার্সি গায়ে অলিভার কানের শেষ ম্যাচ। এরপর বায়ার্নের হয়ে নিজের চুক্তির মেয়াদ ২০০৮ সাল পর্যন্ত খেলে ক্লাব ফুটবল থেকেও বুটজোড়া তুলে রাখেন কান। ১৪ বছরের বায়ার্ন ক্যারিয়ারে ৮ বার জার্মান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে কান। এছাড়াও ১৯৭ ক্লীনশিট নিয়ে বুন্দেসলীগা ইতিহাসের সর্বোচ্চ ক্লীনশিটের রেকর্ডও ছিল জার্মান এই কিংবদন্তীর দখলে।

অলিভার কানের রিফ্লেক্স হয়তো ইকার ক্যাসিয়াসের মত ছিল না, হয়তো ছিলেন না পিটার স্মাইকেলের মত বুদ্ধিমান কিন্তু গোলবারের নিচে তার উপস্থিতি ছিল দলের ডিফেন্সে অন্যতম ভরসা। গোলবারের নিচে তার দৃঢ়তা, অ্যাগ্রেসন আর আত্ববিশ্বাসের কারণে জার্মান মিডিয়া তার নাম দিয়েছিল “দি টাইটান” (জার্মান ভাষায় ডার টাইটান)। আর তার ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ডাকত vol“kahn”o (volcano – ভলকানো) নামে।জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ না জিতলেও ২০০২ বিশ্বকাপে তার পারফর্মেন্স এবং বায়ার্নের হয়ে তার বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার অলিভার কানকে ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা দিবে এ কথা বলা যায় নিঃসন্দেহে।