ইপিএল টিম প্রিভিউঃ সাউদহ্যাম্পটন

ইপিএল টিম প্রিভিউঃ সাউদহ্যাম্পটন

ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্লাবের লীগ প্রতিযোগিতা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রিমিয়ার লীগে ২০টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলকে ৩৮টি খেলায় অংশ নিতে হয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ কে বলা হয় ইউরোপের সবচেয়ে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দিতা পূর্ণ লীগ এখানে বড় দল বা ছোট দল বলে কিছু নেই। ফিজিক্যালি এলাউ করে খেলা এবং তার সাথে যুক্ত হয় দলগুলোর হার না মানা মনোভাব এই দুইয়ে মিলে ম্যাচ গুলো খুব প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ এবং দর্শকসমাগম হয়। ২০১৬/১৭ মৌসুম শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৫ দিন তাই আমরা চেষ্টা করছি অতি অল্প এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেকটা ক্লাবকে যতটুকু সম্ভব ইন ডিটেইলে আপনাদের কাছে তুলে ধরা যায়। যাতে করে আপনাদের খেলা দেখা অনেক সহজ ও উপভোগ্য হয়।

আজ পঞ্চদশ পর্বঃ– আজকের সাউদাম্পটন ক্লাব । চতুর্দশ পর্বে আমরা ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।

সাউদাম্পটনঃ- স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে। ক্লাবটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন হ্যাম্পশায়ারে অবস্থিত। ১৮৮৫ সালে সাউদাম্পটন সেন্ট মেরী’স চার্চে ইংল্যান্ড ইয়ং ম্যান’স অ্যাসোসিয়েশন একটি সংঘ ছিল পরবর্তীতে তারায় সাউদাম্পটন ক্লাবটি খোলেন। যার জন্য ক্লাবটি প্রথমে সেন্ট মেরী’স ইয়ং ম্যান’স অ্যাসোসিয়েশন এফ সি নামে পরিচিত ছিলো পরে অবশ্য সেন্ট মেরী’স এফ সি। ১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে ক্লাবটি আবার নাম পরিবর্তন করে সাউদাম্পটন সেন্ট মেরী’স এফ সি নামে এবং এইনামে তারা ১৮৯৪ সালে সাউদার্ন লীগে অংশ গ্রহন করে। ১৮৯৬-৯৭ সালে সাউদার্ন লীগ জেতার পর ক্লাবটি লিমিটেড কোম্পানী নামে রেজিস্ট্রেশন করে ফাইন্যালি সাউদাম্পটন এফসি নামে যাত্রা শুরু করে। নামকরনের এই অস্থিরতা তাদের ক্লাব ইতিহাসের পারফরম্যান্স জুড়েও পরিলক্ষিত হয়। ১৮৯৪ সালে সাউদার্ন লীগে অংশ নিয়ে ডিভিশন-৩ এ আসতে আসতে তাদের ১৯২০-২১ মৌসুম অব্দি লেগে যায়। খুব দ্রুত ১৯২২-২৩ সালে ডিভিশন-২ তে উন্নীত হয়ে ১৯৫৩ পর্যন্ত অবস্থান করে। এরপর ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে আবার ডিভিশন-৩ এ নেমে যায় এবং ১৯৫৯-৬০ পর্যন্ত থাকে। ১৯৬০-৬১ সালে আবার দ্বিতীয় বিভাগে ফিরে এসে ১৯৬৬-৬৭ সালে প্রথম বিভাগে উন্নীত হয় কিন্তু ১৯৭৪-৭৫ সালে আবার দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গিয়ে ১৯৭৮-৭৯ প্রথম বিভাগে ফিরে আসে। তারা ১৯৯২-৯৩ সাল থেকে ২০০৪-০৫ পর্যন্ত টানা প্রিমিয়ার লীগে ভালোয় ভালোয় খেলে আবার ২০০৫-০৬ মৌসুমে আবার দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপে নেমে যায় আরো করুণ পরিণতি অপেক্ষা করে যখন ২০০৯-১০ মৌসুমে লীগ ওয়ানে নেমে যায়। ২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশীপে রানারাপ হয়ে ২০১২-১৩ সালে আবার প্রিমিয়ার লীগে ফিরে আসে। এবং এখনো টিকে আছে। ১৮৯৮ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দ্যা ডেল গ্রাউন্ডকে হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০০১ সালে নবনির্মিত সেন্ট মেরী’স স্টেডিয়ামে এসে স্থায়ী আবাস নেয়।

নিকনেম– সাউদাম্পটনের নিকনেম দ্যা সেইন্টস। চার্চ ভিত্তিক দল হওয়ায় সেইন্টস নামে পরিচিত।

ম্যানেজারঃ- ক্ল্যদে পুয়েল। ফরাসি এই ভদ্রলোক একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তার খেলোয়াড়ি জীবন বলতেই শুধু মোনাকো। ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৭০ এ ক্যাস্ত্রেসের হয়ে। ১৯৭৭ সালে মোনাকো যুব দলে যোগ দেন। এবং ১৯৭৯ সাল থেকে মোনাকো সিনিয়র খেলা শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর মোনাকোর হয়ে খেলে অবসরে যান এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। খেলোয়াড়ি জীবনে ৪৮৮ ম্যাচে ৪গোল করতে সমর্থ হন। এরপর ১৯৯৯সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন সেই মোনাকোর হয়েই। পূর্ণ নিয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার আগে তিনি মোনাকো রিজার্ভ টিমের ম্যানেজার কাম ফিজিক্যাল ট্রেইনার হিসেবে হিসেবে ছিলেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত মোনাকো’র সাথে ২৪ বছর খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে জড়িত থাকার পর মোনাকো পুয়েলের সাথে আর চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি। এরপর ২০০২-০৮ সালে লিলে’তে, ২০০৮-১১ পর্যন্ত লিও এবং ২০১২-১৬ পর্যন্ত নীচে ছিলেন। ২০১৬ সালে এসে সাউদাম্পটনের গত মৌসুমের সফল কোচ কোম্যানের স্থলাভিষিক্ত হন।।

লাস্ট সিজনঃ- ২০১৫-১৬ মৌসুম ছিল প্রিমিয়ার লীগ শুরু হওয়ার পর থেকে সাউদাম্পটনের সতেরতম অংশ গ্রহন। তারা ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টানা ৩৯তম অংশগ্রহন। আরো নির্দিষ্ট করে বললে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হওয়ার পর থেকে গত মৌসুম ছিল সাউদাম্পটনের সবচেয়ে সফল মৌসুম। গত বার তারা প্রিমিয়ার লীগ, এফ এ কাপ, লীগ কাপ, এবং ইউরোপা লীগে অংশ নেয়। সাউদাম্পটন গতবার লীগ শেষ করে ৩৮ ম্যাচে ১৮ জয় ১১ পরাজয় ৯ ড্রএ ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ অবস্থানে থেকে। যা ছিল সাউদাম্পটনের ক্লাব ইতিহাসের সেরা অর্জন। যার মাধ্যমে তারা ২০১৬-১৭ মৌসুমের ইউরোপা লীগের গ্রুফ স্টেজে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তাদের এফ এ কাপের মিশন তৃতীয় রাউন্ডে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ২-১ হেরে থেমে যায়। লীগ কাপ পঞ্চম রাউন্ডে লিভারপুলে কাছে ৬-১ বিধ্বস্ত হয়।। ইউরোপা লীগের তৃতীয় কোয়ালিফাইংএ অংশ নেয় এবং প্লে অফে মিডশিল্যান্ডের অ্যাগ্রিগেটে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। গত মৌসুমের সাউদাম্পটনের টপ স্কোরার ছিলেণ সদ্য লিভারপুলে যোগ দেয়া সেনেগালিজ স্ট্রাইকার সাদিও মানে করেন ১৫ গোল এবং তার স্ট্রাইকিং পার্টনার ইতালিয়ান গ্রাজিয়ানো পেল্লে করেন ১৪ গোল। তাদের আরেকজন স্ট্রাইকার আছেন আইরিশ স্ট্রাইকার শ্যেন লং তিনি করেন ১৩ গোল বুঝতেই পারছেন কতটা বিধ্বংসী ছিল এই ত্রয়ী। সাউদাম্পটনের দলনেতা পর্তুগীজ জোসে ফন্টে ছিলেন দলের মূল ডিফেন্স সমন্বয়ক।

নতুন সিজনের দলবদলঃ- নতুন সিজনের দলবদলের বাজারে সাউদাম্পটন এখনো তেমন কোন বড় খেলোয়াড় কিনে চমক দেখাতে না পারলেও বিক্রি করে ঠিকই চমকে দিয়েছে ফ্যানদের। গত মৌসুমের দলের সর্বোচ্চ স্কোরার সাদিও মানে কে লিভারপুলের কাছে £34.0m এ বিক্রি করে। এবং স্কোরার ইতালিয়ান পেল্লে কে চায়নায় পাঠিয়ে দিয়ে দলটি বেশ দুর্বলই হয়ে পড়েছে বলা যায়। তার উপর গত তাদের রক্ষনদেয়াল সামলানো জোসে ফন্টে’র ম্যান ইউ কে ঘিরে চলা গুঞ্জন সাউদাম্পটনের কপালে ভাঁজ ফেলারই কথা। শুধু বিক্রি নয় কিছু কিনেছেও বটে নাথান রেডমন্ড কে £11.0m নরউইচ থেকে এবং অ্যালেক্স ম্যাককার্থি কে £4.0m এ ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে নিয়ে এসেছে। (এখন পর্যন্ত)

নতুন সিজনে চোখ রাখবেনঃ- আইরিশ স্ট্রাইকার শ্যেন লং এর উপর।

হোম গ্রউন্ডঃ- সেন্ট মেরী’স স্টেডিয়াম।

চতুর্দশ পর্ব ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড  


ম্যানিয়াক্স ডেস্ক থেকে
ফজলে আজিজ রিয়াদ