ইয়ুহেইন ক্রুইফের বিপ্লব !

[vc_row][vc_column][vc_column_text]টোটাল ফুটবল এমন একটা সিস্টেম যেখানে যেকোনো প্লেয়ার খেলার প্রয়োজন মাফিক যেকোনো প্লেয়ারের রোল প্লে করতে পারে । যদিও ভিচ বাকিংহাম এই কনসেপ্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল কিন্তু সত্তরের দশকের পরাক্রমশালী আয়াক্সের কোচ রাইনাস মিচেল এই সিস্টেমকে পরিশীলিত রুপ দান করেন । এই টোটাল ফুটবলের পথ ধরেই আয়াক্স ফুটবল টীম পর পর তিন বার ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) ঘরে তোলে । সেই অপরাজেয় আয়াক্স টীমের একজন ফুটবলারকে খুব সহজেই আলাদাভাবে চেনা যেত তার ড্রিবলিং , মুভমেন্ট এন্ড ভিশনের কারণে । তিনি আর কেউ নন, বর্তমান বার্সেলোনা টিমের ফুটবল দর্শনের পথ প্রবর্তক ইয়োহান ক্রুইফ ।
খেলোয়াড় ইয়োহান ক্রুইফের বার্সেলোনায় আগমনঃ

চল্লিশ থেকে ষাটের দশকে অনেক রাজনৈতিক এন্ড সামাজিক কারণে  ক্লাব বার্সেলোনা তাদের সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছিলনা । কিন্তু সত্তরের দশকের শুরু থেকে বার্সেলোনা নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছিল অনেক বাধা বিপত্তির মাঝেও । তারপরেও কোন এক অজানা কারণে কিছুতেই শিরোপা জেতা সম্ভব হচ্ছিলনা , অন্যদিকে রাইভাল রিয়াল মাদ্রিদ ডোমেস্টিক লীগে একের পর এক শিরোপা জিতে সমস্যাটিকে আরও প্রগাড় করে তুলেছিল । টিমে সবকিছু থাকার পরেও এমন একটা এক্স ফ্যাক্টরের অভাব থেকেই যাচ্ছিল যাকিনা যেকোনো টীমকে কঠিন একটা ম্যাচ থেকে অনুকূল একটা রেজাল্ট বের করে নিয়ে আসতে সাহায্য করে । অবশেষে ১৯৭৩-৭৪ সিজনে ক্রুইফের অ্যারাইভালের সাথে সাথেই যেন বিরাট এক পরিবর্তন চলে আসল বার্সেলোনায় ।
[pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””]১৯৭৩-৭৪ সিজনের প্রথম ভাগেই ক্রুইফ বার্সেলোনায় তার ক্যারিয়ার শুরু করেন এক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সময়ে । ১৪ বছর ধরে বার্সেলোনা লীগ শিরোপা জেতেনি , তাই বার্সেলোনার দরকার ছিল এমন একজন প্লেয়ার যেকিনা তার পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো টিমকে মোটিভেট করতে পারবে । সেই সময়ের কথা চিন্তা করলে এজন্য ক্রুইফের থেকে ভালো অপশন আর হতে পারতনা । ১৯৭১ সালেই ক্রুইফ তার ক্যারিজম্যাটিক পারফরম্যান্স দিয়ে ইউরোপের সেরা প্লেয়ারের পুরস্কারস্বরূপ ব্যালন ডি অর জিতে নিয়েছিলেন । তাই বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট এন্ড বোর্ড তাকে আয়াক্স থেকে বার্সেলোনায় নিয়ে আসল । তাকে কিনতে সেই সময়ে বার্সেলোনাকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি পে করতে হয়েছিল । বার্সেলোনার হয়ে ক্রুইফের প্রথম ম্যাচই ছিল গ্রানাডার বিরুদ্ধে এবং বার্সেলোনা সেই ম্যাচে ৪-০ গোলে জয়লাভ করে । প্রথম ম্যাচেই ক্রুইফ প্রমান করে দিল তার উপর ভরসা করাটা কেন যুক্তিযুক্ত একটা সিদ্ধান্ত ছিল ।[/pullquote]

লা লীগার মেইন উত্তেজনা মানেই এল ক্লাসিকো । ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে এল সেই প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোর মুহূর্ত । কাতালানদের জন্য এই ম্যাচটা ছিল তিন পয়েন্টের থেকেও বেশি কিছু কারন তখনকার গভর্নমেন্ট যতভাবে সম্ভব কাতালানদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছিল । তাই এই ম্যাচকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশার দানা বাঁধতে শুরু করে । এর আগের বছরগুলোতে রিয়াল মাদ্রিদ জিতে অলরেডি তাদের ডমিন্যান্সের প্রমান দিয়ে দিয়েছে এন্ড রেজাল্টও তাদের ফেভারেই যাবার ইঙ্গিত দুই দলের তুলনামুলক ফর্ম বিচার করলে । কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইয়োহান ক্রুইফের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাথে পুরো টীমের দুর্দান্ত গেমপ্লে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে । সেই জয়ের মধ্য দিয়েই কাতালানরা এক নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখতে থাকে , এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা ।
[pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””]তার ইন্সপায়ারিং পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনা লা লীগা জিতে ১৪ বছরের অভাব দূর করে । ১৯৭৩ এবং ৭৪ সালে ক্রুইফ আবার ব্যালন ডি অর পান এবং এর মাধ্যমে তিনিই হয়ে যান ফুটবল ওয়ার্ল্ডের সর্বপ্রথম ফুটবলার যিনি কিনা তিন তিনটি ব্যালন ডি অর জয় করেছেন । যদিও বার্সেলোনায় তিনি তার খেলোয়াড়ি জীবনে কেবল একটি লা লীগা এবং একটি কোপা দেল রে জিতেছেন তথাপি তিনি বার্সেলোনা টিম এন্ড ফ্যানদের মনে যে প্রভাব রেখে গিয়েছিলেন সে কারণে প্রত্যেক বার্সেলোনা ফ্যান এন্ড কাতালানরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে ।[/pullquote]

কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুঃ

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পরে ক্রুইফ তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন আয়াক্সে । এই ব্যাপারে একটা ছোট ইন্টারেস্টিং ঘটনা আছে । কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার আগে তিনি কিছুদিন আয়াক্সের টেকনিক্যাল এডভাইজার হিসবে ছিলেন । ১৯৮০ সালের নভেম্বরের ৩০ তারিখ ডাচ লীগে আয়াক্স প্রতিপক্ষ টুয়েন্টের সাথে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে । আয়াক্সের কোচও বুঝতে পারছিলেন না ম্যাচ বাঁচাতে কি করা উচিত , ক্রুইফ তখন ডাগ আউটেই ছিলেন। কোচের ডিরেকশনের অভাব দেখে তিনি আর থাকতে না পেরে নিজে থেকেই আয়াক্সের প্লেয়ারদের খেলার কৌশল চেঞ্জ করতে থাকেন । আর তার ডিরেকশনেই আয়াক্স নিশ্চিত হারা ম্যাচটিতে ৫-৩ গোলে জয়লাভ করে । ক্রুইফকে যারা খুব কাছ থেকে চিনতেন তারা সবাই বুঝেছিলেন যে খেলোয়াড়ি জীবনেই ইয়োহান ক্রুইফ থেমে থাকবেন না , ফুটবলকে তার দেয়ার আছে আরও অনেক কিছু ।
দ্যা কামব্যাক অব ইয়োহান ক্রুইফ টু ন্যু ক্যাম্প এজ কোচঃ [pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””]ক্রুইফ তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন আয়াক্সে । এরপরে তিনি বার্সেলোনা কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৮৮ সালে । তিনি লুইস আরাগোনেসের হাত থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন । ক্রুইফের কোচিং নিয়ে বলার আগে ইউরোপিয়ান কাপে [ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ] বার্সেলোনার পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু কথা বলা যাক । ক্রুইফ বার্সেলোনার দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত বার্সেলোনা দুই দুইটি ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে উঠেছে [ ১৯৬১ এবং ১৯৮৬ ] । এর মধ্যে ১৯৬১ সালের ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে বার্সেলোনা তাদের লিজেন্ডারি প্লেয়ার ল্যাজিও কুবালার ম্যাজিকাল পারফরম্যান্সে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে ।[/pullquote]

কিন্তু দুঃখজনকভাবে ৬১ এবং ৮৬ দুইবারই বার্সেলোনা শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয় । ১৯৮৮ সালে বার্সেলোনার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ন্যুনেজ বুঝতে পেরেছিলেন এখন টিমকে ঢেলে সাজানো উচিত এবং এমন একজনকে টিমের দায়িত্ব দেয়া উচিত যিনি প্লেয়ারদের মধ্যে উইনিং মেণ্টালিটিটা ব্যাক করাতে পারবেন । ক্রুইফ দায়িত্ব হাতে পাওয়া মাত্রই বার্সেলোনার খেলার কৌশল পাল্টানো শুরু করেন এবং তার পছন্দ অনুযায়ী কিছু হোম গ্রোন এন্ড ফরেন প্লেয়ার টীমে ইনক্লুড করেন ।
ইয়োহান ক্রুইফ, এফসি বার্সেলোনা এন্ড টোটাল ফুটবলঃ আয়াক্সে প্লেয়ার থাকাকালীন অবস্থায় তিনি রাইনাস মিচেল থেকে টোটাল ফুটবলের যে কনসেপ্ট আয়ত্ত করেছিলেন বার্সেলোনায় এসে তিনি তার সেই আইডিয়া বাস্তবায়ন করা শুরু করেন । তার টোটাল ফুটবলের ভিত্তিই ছিল কন্সট্যান্ট মুভমেন্ট এন্ড কুইক চেঞ্জ অফ পজিশন বিটুইন প্লেয়ারজ । তার আইডিয়া ছিল অনেকটা এরকমঃ[pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””] পুরো টিম একটা ব্রড ট্যাকটিক্যাল শেপ মেইনটেইন করবে যেখানে একজন প্লেয়ার আরেজনকে কাভার করবে , ঐ আরেকজন অন্য আরেক প্লেয়ারকে কাভার করবে । এতে করে প্রতিপক্ষ তালগোল পাকিয়ে ফেলবে যে কিভাবে একজন নির্দিষ্ট প্লেয়ারকে কাভার করবে । প্রায়শই দেখা যেত ফরওয়ার্ডের বিশেষ করে উইঙ্গারের ওয়াইড রান কাভার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার ডি বক্সের মাঝখানে বিশাল স্পেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হত এবং তখনই একজন মিডফিল্ডারের কাজ হত সে স্পেসকে কাজে লাগিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করা ।[/pullquote]

ইয়োহান ক্রুইফের টিম ফর্মেশন ছিল অনেকটা এমনঃ ব্যাকে তিনজন দ্রুত গতির ডিফেন্ডারের সাথে একজন পিভট থাকবে যেকিনা অপেক্ষাকৃত বেশি স্পেস কাভার করবে , দুইজন মিডফিল্ডার সাইড বাই সাইড থেকে কন্সট্যান্টলি উইঙ্গে বল যোগান দিবে এবং অ্যাটাকিং থ্রেট ক্রিয়েট করবে । আর সব থেকে প্রয়োজনীয় দুইজন ফাস্ট উইঙ্গার যারা অলয়েজ তাদের সাইডলাইন দিয়ে সুইফট রানিংকে কাজে লাগিয়ে ডিবক্সে স্পেস ক্রিয়েট করে দিবে যার সুযোগ নিবে একজন ভারস্যাটাইল সেন্টার ফরওয়ার্ড ।
লা মাসিয়াঃ

ইউথ লেভেলে একের পর এক ট্যালেন্টেড প্লেয়ার নিয়ে আজকে যেভাবে গর্ব করতে পারে বার্সেলোনা তার হাতেখড়ি হয়েছিল ক্রুইফের সুপারিশেই । ১৯৭৯ সালে প্লেয়ার থাকা অবস্থায় তিনি তৎকালীন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট ন্যুনেজের কাছে একটা ইউথ একাডেমী গঠনের প্রস্তাব দেন যেখানে প্লেয়ারদের ছোটবেলা থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে । হোম গ্রোন প্লেয়ারের পাশাপাশি অনেক ইয়াং প্রমিজিং প্লেয়ারকে সঠিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ডেভেলপ করাই ছিল সেই একাডেমীর লক্ষ্য । সেই ইউথ একাডেমীই এখন সারা বিশ্বে “লা মাসিয়া” নামে পরিচিত । গ্রাসরুট লেভেল থেকে ইয়াং প্লেয়ারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার এই দূরদর্শী পলিসি যে পুরোপুরি পে অফ করেছে তা গত দুই যুগে এই ইউথ একাডেমী থেকে বের হওয়া অসংখ্য স্বনামধন্য প্লেয়ারদের তালিকা দেখেই বোধগম্য হয় । [pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””]গুইলেরেমো আমর, কার্লোস বুসকেটস, আলবার্ট ফেরের , পেপ গুয়ার্ডিওলা, অস্কার গারসিয়া, সারজি বারজুয়ান , জাভি হারনান্দেজ , কার্লোস পুয়োল, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লিওনেল মেসি , সেস ফ্যাব্রেগ্যাস, ভিক্টর ভালদেজ, জেরার্ড পিকে, সারজিও বুসকেটস এন্ড আরও অনেকে এই একাডেমী থেকে উঠে এসেছে যারা কিনা নিকট অতীতে এবং বর্তমানে বার্সেলোনার নাম ফুটবল জগতে উজ্জ্বল করেছিল এবং সুদুর ভবিষ্যতেও একইভাবে করে যাবে । এন্ড অল ক্রেডিট গোজ টু দ্যা ওয়ান এন্ড অনলি ইয়োহান ক্রুইফ ।[/pullquote]

বার্সেলোনার কোচ হিসেবে আসার পরেই ক্রুইফ এই ইউথ একাডেমীর উপর আরও জোর দেয়া শুরু করে । প্রথম সিজনে টিম গুছিয়ে নিতেই কিছুটা সময় লেগে যায় কিন্তু তারপরেও বার্সেলোনা লীগে সেকেন্ড হিসেবে শেষ করে + কাপ উইনার্স কাপ জিতে নেয় । সেকেন্ড সিজনে ক্রুইফ টিমকে অনেকখানি গুছিয়ে নিয়ে আসার পরেও লীগ অধরাই থেকে যায় কিন্তু এবার ক্রুইফের বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে কোপা দেল রে চাম্পিওন হয় । তৃতীয় সিজনে এসে বার্সেলোনা কিছু ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার কিনে + হোম প্লেয়ারদের লোন থেকে ব্যাক করিয়ে দুর্দান্ত একটা টীম ফর্মেশন বানিয়ে ফেলে । এই সিজনের মধ্য দিয়েই ক্রুইফের সেই বিখ্যাত ” ড্রিম টিমের” পথ চলা শুরু । পেপ গা কুর্দি , রিস্টো স্টোইকোভ, রোনাল্ড কোম্যান, জোসে বাকেরো, রোমারিও, মাইকেল লউড্রাপ ছিলেন সেই ” ড্রিম টিমের” একেকজন বিখ্যাত প্লেয়ার । ১৯৯০-৯১ সালে অবশেষে বার্সেলোনা ক্রুইফের আন্ডারে লীগ শিরোপা জিতে নেয় । এই লীগ শিরোপার গুরুত্ব বার্সেলোনা এন্ড ইয়োহান ক্রুইফের কাছে আরও অনেক বেশি ছিল কারন ঐ সিজনের একটা সিগনিফিক্যান্ট টাইম হার্টের অপারেশনের কারণে ক্রুইফ মাঠের বাইরেই ছিলেন ।
ড্রিম টিম অফ ইয়োহান ক্রুইফ এন্ড দ্যা লং এওয়েইটেড চ্যাম্পিয়ন্স লীগঃ
এরপরেই আসে প্রত্যেক বার্সেলোনা ফ্যান এন্ড প্লেয়ারের কাছে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত । ক্রুইফের তত্ত্বাবধানে বার্সেলোনার চতুর্থ সিজন । ডমেস্টিক লীগে তখন বার্সেলোনা ড্রিম টিমের চূড়ান্ত আধিপত্য কিন্তু তারপরেও ইউরোপিয়ান স্টেজে এসে সেই ইউরোপিয়ান কাপ বার্সেলোনার ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল । ক্রুইফ দায়িত্ব নেয়ার পর সিজন বাই সিজন বার্সেলোনা যেভাবে নিজেদের টোটাল ফুটবলের সিগনেচার রেখে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলে যাচ্ছিল তাতে অনেক ফ্যানের মনেই আশা সঞ্চার হচ্ছিল যে সম্ভবত ক্রুইফের ড্রিম টিমই সেই বহুল প্রতীক্ষিত শিরোপা নিয়ে আসতে পারবে কাতালান এন্ড বার্সেলোনা ফ্যানদের জন্য । ১৯৯২ সালে মে মাসের ২০ তারিখ বার্সেলোনা তাদের ইতিহাসে তৃতীয় বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে উঠলো । ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ১১২ মিনিটে সাম্পদোরিয়ার প্লেয়ার আর দর্শকদের হতভম্ব করে রোনাল্ড কোম্যানের করা ফ্রিকিকে বার্সেলোনা প্রথম বারের মত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে । এরপরের সিজনেই তৎকালীন ব্রাজিলের সেনসেশন রোমারিও বার্সেলোনায় যোগদান করেন , যিনি কিনা গোলমুখে তার অসাধারণ স্কিলের জন্য বার্সেলোনার ইতিহাসের ওয়ান অব দ্যা বেস্ট ফরওয়ার্ডস হিসেবে পরিগণিত হন । রিস্টো স্টোইকোভ + রোমারিওর লিথ্যাল পার্টনারশিপই ৯৩-৯৪ এন্ড ৯৪-৯৫ সিজনে বার্সেলোনাকে লীগ শিরোপা এনে দেয় ।
[pullquote align=”full” cite=”” link=”” color=”” class=”” size=””]ক্রুইফ এমন একটা সময়ে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে এসেছিলেন যখন বার্সেলোনার রাইভাল রিয়াল মাদ্রিদ পর পর তিনবার লীগ শিরোপা জিতে নিয়েছিল এবং ইউরোপিয়ান স্টেজে শেষ পর্যন্ত ভালো করাটা অসম্ভবই থেকে যাচ্ছিল । সেই বিধ্বস্ত বার্সেলোনাকে তিনি তার ব্যক্তিগত ফুটবল দর্শনের আদলে গড়েপিটে কেবল ফুটবল জগতে বার্সেলোনা টিমকে নতুনভাবে পরিচয়ই করাননি , একের পর এক শিরোপা জিতে দলের মধ্যে উইনিং মেনটালিটিও ফিরিয়ে এনেছিলেন । কোচ থাকা অবস্থায় ইয়োহান ক্রুইফ বার্সেলোনার হয়ে ১১টি শিরোপা জিতেছেন [ টানা চারটি স্প্যানিশ লীগ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর মধ্যে অন্যতম ] ।[/pullquote]

ক্রুইফের পরে যত কোচই বার্সেলোনায় এসে মূল্যবান অবদান রেখে গিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই স্বীকার করে গিয়েছেন আজকের এই বার্সেলোনার মূল কারিগর হলেন ইয়োহান ক্রুইফ । নব্বই দশকের ড্রিম টিমের পর যেই বার্সেলোনা আবার ফুটবল বিশ্বকে তাদের নান্দনিক ফুটবল দিয়ে বশীভূত করল তা ছিল ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের আন্ডারে । ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের বার্সেলোনায় হয়ত কখনই আসা হতনা যদিনা ক্রুইফ লাপোর্তাকে পরামর্শ দিতেন তাকে আনার জন্য । শেষ পর্যন্ত রাইকার্ড এন্ড রোনাল্ডিনহোর হাত ধরেই এল দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ।
৪ বছরে ১৪ টা শিরোপা যার হাত ধরে এসেছিল সেই পেপ গুয়ার্ডিওলাকেও ইয়োহান ক্রুইফের পরামর্শেই এপোয়েন্ট করা হয়েছিল আর এরপরে বাকিটা ইতিহাস । শিরোপার দিক থেকে পেপ গুয়ার্ডিওলার সেই বার্সেলোনা ইয়োহান ক্রুইফের ড্রিম টিমকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল ।
হয়তো ভবিষ্যতেও কোন এক কোচ শিরোপার দিক দিয়ে ইয়োহান ক্রুইফকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু কেউই বার্সেলোনা ফ্যান আর কাতালানদের কাছ থেকে ক্রুইফের জায়গা কেড়ে নিতে পারবেনা। তিনি যেভাবে তিল তিল করে একটা বিধ্বস্ত টিমকে গড়ে তুলেছিলেন, ইউরোপিয়ান স্টেজে বার্সেলোনাকে জিততে শিখিয়েছেন, ইউথ লেভেলে বিশ্বসেরা প্লেয়ার গড়ার ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন তা আর কেউই রিপ্লেস করতে পারবেনা । বার্সেলোনার খেলার দর্শনের আমুল পরিবর্তন করে তিনি আমাদের ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইয়োহান ক্রুইফ মানেই এফসি বার্সেলোনা!



বি.দ্র: সবশেষে বলতে হয় ইয়োহান ক্রুইফ শুধু একজন খেলোয়াড়ের নাম নয় সে একজন যোদ্ধাও বটে।

এতক্ষণ বসে বসে পড়ার জন্য ধন্যবাদ

@আজহার তনয়[/vc_column_text][vc_basic_grid post_type=”post” max_items=”6″ show_filter=”yes” grid_id=”vc_gid:1449044299817-1e57019a-d485-7″ taxonomies=”126″ filter_source=”category”][/vc_column][/vc_row]